Academy

শামসুল হুদা একজন সৎ ও সাহসী ব্যক্তি। অন্যায়ের বিরুদ্ধে তিনি সব সময় সোচ্চার। অত্যাচারী জমিদার ও সুদখোর মহাজনদের হাত থেকে জনগণকে রক্ষায় তিনি একটি বাহিনী গড়ে তোলেন এবং তাদের প্রশিক্ষণের জন্য একটি দুর্গ প্রতিষ্ঠা করেন।

উদ্দীপকের সাথে সাদৃশ্যপূর্ণ ব্যক্তিত্বের আন্দোলনের কারণে ব্রিটিশ বিরোধী আন্দোলন গতি লাভ করে- বিশ্লেষণ করো (উচ্চতর দক্ষতা)

Created: 1 month ago | Updated: 1 month ago
Updated: 1 month ago
Ans :

উদ্দীপকের সাথে সাদৃশ্যপূর্ণ ব্যক্তিত্বের অর্থাৎ তিতুমীরের আন্দোলনের কারণে ব্রিটিশ বিরোধী আন্দোলন গতি লাভ করেছিল।
তিতুমীরের কৃষক আন্দোলন ও বারাসাত বিদ্রোহ ছিল ইস্ট ইন্ডিয়া কোম্পানির বিরুদ্ধে শক্তিশালী বিদ্রোহ। এর মাধ্যমে তিনি প্রমাণ করেন যে, রক্তদান ব্যতীত স্বাধীনতা অর্জন সম্ভব নয়। তাঁর পরিচালিত এ বিদ্রোহ ছিল জমিদার ও নীলকরদের অত্যাচারের বিরুদ্ধে। তিনি নারিকেলবাড়িয়ার আশপাশের জমিদারদের পরাজিত করে চব্বিশ পরগনা, নদীয়া এবং ফরিদপুর জেলার কিছু অংশ নিয়ে একটি স্বাধীন রাজ্য গঠন করেন এবং কোম্পানি সরকারের বিরুদ্ধে বিদ্রোহ ঘোষণা করেন। তিনি ইংরেজ সরকারের আক্রমণ মোকাবিলার জন্য নারিকেলবাড়িয়ায় একটি বাঁশের কেল্লা নির্মাণ করেন। ১৮৩১ সালে ইংরেজ বাহিনীর সাথে যুদ্ধে তিতুমীরও শহিদ হন।
ইংরেজদের গোলাবারুদ এবং নীলকর ও জমিদারদের ঐক্যবদ্ধ প্রতিরোধের মুখে তিতুমীরের বাঁশের কেল্লা ছিল সাহস আর দেশপ্রেমের প্রতীক। যা যুগে যুগে বাঙালিকে অন্যায়-অত্যাচারের বিরুদ্ধে প্রতিবাদমুখর হতে সাহস যুগিয়েছে। প্রেরণা যুগিয়েছে স্বাধীনতার পথে এগিয়ে যেতে। উপরের আলোচনা থেকে এটাই প্রমাণিত হয় যে তিতুমীরের আন্দোলনের কারণেই পরবর্তী সময়ের ব্রিটিশ বিরোধী আন্দোলনগুলো গতি লাভ করেছে।

1 month ago

রাজনৈতিক ব্যক্তিত্ব : বাংলাদেশের স্বাধীনতা লাভ

**'Provide valuable content and get rewarded! 🏆✨**
Contribute high-quality content, help learners grow, and earn for your efforts! 💡💰'
Content

Related Question

View More

বেজাল প্যাক্ট হলো বাংলার হিন্দু ও মুসলিম সম্প্রদায়ের মধ্যে বিদ্যমান সাম্প্রদায়িক বিভেদ সমাধানের লক্ষ্যে সম্পাদিত চুক্তি।
দেশবন্ধু চিত্তরঞ্জন দাশ অনুভব করেছিলেন যে, বাংলার সংখ্যাগরিষ্ঠ মুসলমানদের দাবি অগ্রাহ্য করে স্বাধীনতা আন্দোলন চালিয়ে যাওয়া সম্ভব নয়। এ দিক বিবেচনা করে চিত্তরঞ্জন দাশ মুসলমানদের সমর্থন ও হিন্দু-মুসলমানদের মধ্যে ঐক্য প্রতিষ্ঠার চেষ্টা করেন। বাংলার মুসলিম নেতারাও তাঁর সাথে সহযোগিতার হাত বাড়িয়ে দেন। এদের মধ্যে উল্লেখযোগ্য হলেন এ.কে. ফজলুল হক, মৌলবি আবদুল করিম এবং হোসেন শহীদ সোহ্রাওয়ার্দী। তাদের উদ্যোগে ১৯২৩ সালে 'বেঙ্গল প্যাক্ট' স্বাক্ষরিত হয়।

উদ্দীপকের শামসুল হুদার সাথে আমার পঠিত মহান নেতা শহিদ তিতুমীরের সাদৃশ্য রয়েছে।

ব্রিটিশ বিরোধী আন্দোলনের অগ্রসৈনিক শহিদ তিতুমীরের আসল নাম সৈয়দ মীর নিসার আলী। তিনি দেশের মানুষকে ইংরেজ, জমিদার এবং নীলকরদের অত্যাচার ও শোষণের হাত থেকে রক্ষার প্রচেষ্টা চালান। তিনি কৃষকদেরকে তাদের অধিকার সম্পর্কে সচেতন করে তোলেন এবং তাদেরকে সংঘবদ্ধ হওয়ার আহ্বান জানান। শোষকদের বিরুদ্ধে লড়াই করার জন্য তিনি কৃষকদেরকে সামরিক প্রশিক্ষণ দিতে শুরু করেন। এ লক্ষ্যে তিনি কলকাতার নিকটবর্তী নারিকেলবাড়িয়া নামক স্থানে একটি বাঁশের কেল্লা বা দুর্গ নির্মাণ করেন।
উদ্দীপকের শামসুল হুদার ক্ষেত্রে লক্ষ করা যায়, তিনি একজন সৎ ও সাহসী ব্যক্তি। অন্যায়ের বিরুদ্ধে তিনি সব সময় সোচ্চার। অত্যাচারী জমিদার ও সুদখোর মহাজনদের হাত থেকে জনগণকে রক্ষায় তিনি একটি বাহিনী গড়ে তোলেন এবং তাদের প্রশিক্ষণের জন্য একটি দুর্গ প্রতিষ্ঠা করেন। তার এ লক্ষ্য ও কার্যক্রমের সাথে আমার পঠিত শহিদ তিতুমীরের সাদৃশ্য রয়েছে।

১৯৬৬ সালে বঙ্গবন্ধুর উত্থাপিত ছয় দফা কর্মসূচিকে বাঙালির মুক্তির সনদ বলা হয়।

ফরায়েজি আন্দোলন বলতে হাজী শরীয়তউল্লাহ কর্তৃক পরিচালিত ফরজভিত্তিক আন্দোলনকে বোঝায়।
১৮১৮ সালে হাজী শরীয়তউল্লাহ মক্কা থেকে দেশে ফিরে আসেন। দেশে ফিরে তিনি দেখলেন মুসলমানরা নানা প্রকার কুসংস্কারে লিপ্ত। তারা কবরপূজা, পীরপূজা, ওরস ও মানত করে পরিত্রাণ পাবে বলে মনে করত। এ অবস্থা দেখে হাজী শরীয়তউল্লাহ ধর্মীয় সংস্কার আন্দোলনের ডাক দেন। এতে ইসলাম ধর্মের পাঁচটি ফরজ পালনের ওপর সর্বাধিক গুরুত্বারোপ করা হয়। এই আন্দোলনই ইতিহাসে ফরায়েজি আন্দোলন নামে পরিচিত।

জনাব 'ক' এর সাথে আমার পাঠ্যপুস্তকের মজলুম জননেতা মওলানা আব্দুল হামিদ খান ভাসানীর মিল আছে।

মওলানা আব্দুল হামিদ খান ভাসানী অবহেলিত মানুষের জন্য সারাজীবন কাজ করে গেছেন। অত্যাচার, শোষণ ও জুলুমের বিরুদ্ধে ছিল তার পথ চলা। এই অসাধারণ নেতার প্রতিই নির্দেশ করা হয়েছে জনাব 'ক' এর মধ্য দিয়ে।
জনাব 'ক' দরিদ্র পরিবারে জন্মগ্রহণ করেন এবং অল্প বয়সে বাবা-মাকে হারান। ধর্মীয় শিক্ষায় শিক্ষিত এই মানুষটি ব্রিটিশবিরোধী আন্দোলন এবং দরিদ্রের স্বার্থ সংরক্ষণে আন্দোলন করেছেন। মওলানা আব্দুল হামিদ খান ভাসানীর ক্ষেত্রেও এমনটি লক্ষণীয়। তিনিও দরিদ্র পরিবারে জন্ম নিয়ে বাল্যকালে পিতা এবং কৈশোরে মাতাকে হারান। এরপর চাচার আশ্রয়ে কিছুদিন থেকে পরবর্তীতে ভবঘুরের মতো জীবনযাপন করেন। এ সময় ভাসানী অনেক কষ্ট সহ্য করেছেন। দুবেলা খাবার জোগাড়ের জন্য তিনি দিনমজুর ও কুলির কাজ করেছেন। তিনি কৃষক, শ্রমিক ও জনগণের অধিকার আদায়ের সংগ্রামে ছিলেন বদ্ধপরিকর। এ সংগ্রামে তিনি বার বার অত্যাচারিত, নির্যাতিত ও উৎপীড়িত হয়েছেন। জনদরদি এই নেতা শোষণ ও নির্যাতনের বিরুদ্ধে সাধারণ গরিব মানুষের স্বার্থে আজীবন সোচ্চার ছিলেন। এ কারণে তাকে মজলুম জননেতা বলে অভিহিত করা হয়। মওলানা ভাসানী ঔপনিবেশিক ও সাম্রাজ্যবাদী ব্রিটিশ শাসনের ঘোর বিরোধী ছিলেন। ব্রিটিশ শাসনের বিরুদ্ধে তিনি সন্ত্রাসবাদী আন্দোলন, খেলাফত আন্দোলন, অসহযোগ আন্দোলন, কৃষক প্রজা আন্দোলন, পাকিস্তান আন্দোলন ইত্যাদি সংগ্রামে সক্রিয়ভাবে অংশগ্রহণ করেন। সুতরাং দেখা যায়, মজলুম জননেতা মওলানা ভাসানীরই প্রতিফলন ঘটেছে জনাব 'ক' এর মধ্যে।

Promotion
NEW SATT AI এখন আপনাকে সাহায্য করতে পারে।

Are you sure to start over?

Loading...